পঞ্চগড়ে মহাসড়ক যেন ট্রাক দিয়ে মরণ ফাঁদ

শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯ | ১:৪২ অপরাহ্ণ |

পঞ্চগড়ে মহাসড়ক যেন ট্রাক দিয়ে মরণ ফাঁদ

পঞ্চগড়ের মহাসড়ক যেন ট্রাক টার্মিনালে পরিণত হয়েছে। টার্মিনালের বাইরে প্রতিদিন কয়েক শ ট্রাক সড়কের ওপর পার্ক করে রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প গড় বাজার থেকে শুরু করে ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর পর্যন্ত মহাসড়কের ওপর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ট্রাক পার্ক করে রাখা হচ্ছে। একই অবস্থা তেঁতুলিয়ার ভজনপুর বাজারেরও। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও পাথর-বালুর ব্যবসা প্রসারের ফলে যানবাহনের চাপ বাড়ায় এ দৃশ্য এখন যেন নিত্যদিনের। তবে পরিবহন শ্রমিক নেতারা এর জন্য ট্রাক টার্মিনালের জায়গার স্বল্পতাকে দায়ী করছেন। জানা যায়, ১৯৯৬ সালে জেলা শহরের দক্ষিণে প গড় পৌরসভার তেলিপাড়া এলাকায় মাত্র ৫০ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা হয় প গড় কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল। নির্মাণের পর থেকে জেলা শহরের একমাত্র ট্রাক টার্মিনালটির কোনো উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি। টার্মিনালের ভেতর ট্রাক পার্কিংয়ের জায়গাটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনটিও ঝুঁকিপ‚র্ণ হয়ে পড়েছে। এখানে বাইরে থেকে আসা চালকদের বিশ্রাম বা স্যানিটেশনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া পুরো টার্মিনালে মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাকের বেশি জায়গা হয় না। তাই বাধ্য হয়েই সড়কের ওপর পার্ক করতে হয় বলে জানায় চালকরা। টার্মিনালটি নির্মাণের সময় মাত্র ২০০-২৫০টি ট্রাক প গড় থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করত। পরে প গড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, নেপাল ও ভুটানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। চতুর্দেশীয় বাণিজ্যের একমাত্র স্থলবন্দর হওয়ায় বাণিজ্যিক কাজে যানবাহনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার বহিরাগত ট্রাক আমদানি এবং রপ্তানি করা পণ্য নিয়ে প গড়ে আসে। এ ছাড়া প গড় জেলার প্রায় সাড়ে তিন হাজার ট্রাক প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে যায়। জানা গেছে, প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে পণ্য বোঝাই করে প্রায় ৯০০ থেকে এক হাজার ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় জড়ো হয়। টার্মিনালের ভেতর স্থান সংকুলান না হওয়ায় ট্রাকগুলো মহাসড়কের ওপর আধাকিলোমিটার এলাকাজুড়ে যত্রতত্র পার্ক করে রাখা হয়। এ ছাড়া তেঁতুলিয়ার ভজনপুর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সারি সারি করে সড়কের ওপরই ট্রাক পার্ক করে রাখে চালকরা। এতে প্রতিদিন যান চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে বিকেলে যানজটের সৃষ্টি হয় বেশি। এ সময় টার্মিনাল এলাকায় ধুলায় সড়ক ছেয়ে যায়। নাক-মুখ ঢেকে সড়কের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় পথচারীদের। ঢাকার আমিনবাজার এলাকার ট্রাকচালক আবুল কাশেম বলেন, ‘টার্মিনালে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সড়কের ওপর ট্রাক রাখা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।’ মোটরসাইকেল আরোহী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘দুপুরের পর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় যেতেই ভয় লাগে। আমি নিজেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি। দুই পাশে ট্রাক রাখা হচ্ছে। মাঝখান দিয়ে একটি বড় যানবাহন ঢুকলেই আর পার হওয়া যায় না। লেগে যায় যানজট।’ প গড় জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শহরটাকে নিরাপদ রাখতে ট্রাক টার্মিনালটি এখান থেকে সরিয়ে শহরের বাইরে কোনো স্থানে স্থানান্তর করতে হবে।’ প গড় মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, ‘প গড় পৌরসভা প্রতিবছর এ টার্মিনালটি প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকায় লিজ দেয়। টার্মিনাল থেকে প্রচুর টাকা আয় করলেও এটি সংস্কার বা স¤প্রসারণের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয় না প গড় পৌরসভা।’ প গড় পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলাম ট্রাক টার্মিনালের জায়গা সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘শুরুতে ২০০-২৫০ ট্রাক চলাচল করলেও এখন তা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। টার্মিনালের ভেতর জায়গা না হওয়ায় সড়কের ওপরই ট্রাকগুলো পার্ক করে রাখা হচ্ছে। জরুরিভাবে টার্মিনালটির জায়গা স¤প্রসারণ করা প্রয়োজন।’

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com