নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাল-সেকাল

শুক্রবার, ০৬ জুলাই ২০১৮ | ৯:৫৪ অপরাহ্ণ |

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাল-সেকাল

(জাহিদুল সৌরভ এর টাইমলাইন থেকে নেয়া):সারা বাংলাদেশে নোয়াখালী জেলা এবং এ জেলার মানুষের আলাদা একটা পরিচয় সমাদৃত।
দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ও পরে এবং বর্তমানে দেশের শিক্ষাঙ্গন, রাজনৈতিক প্রাঙ্গন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বাংলার এই দক্ষিণ জনপদের মানুষের নেতৃত্বের কারনেই এই অঞ্চলকে মানুষ অন্যভাবে দেখে।
নোয়াখালীর গ্রহনযোগ্যতা সারাদেশব্যপী ক্রমেই বাড়ছে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরর মেরুকরণে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এ অঞ্চলের মানুষের কাছে অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান।
নোয়াখালী জেলা শহর থেকে আট কিলোমিটার দক্ষিণে হাজী ইদ্রিস সড়কের পশ্চিম পাশে ১০১ একর জায়গায় নিজের অবস্থান করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-২০০১ কার্যকর করার মাধ্যমে ২০০৬ সালের ২৩ জুন সর্বপ্রথম একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বৃহত্তর নোয়াখালীর সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ নোবিপ্রবি প্রতিষ্ঠাকালীন হিসেবে বাংলাদেশের ২৭তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৫ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
স্বপ্নীল এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের সবকয়টি জেলার শীর্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণে ভর্তি হয়।
উচ্ছ্বাসে জেগে, নবউদ্যোমে চলে দেশের জ্ঞানপিপাসু মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে তাদের পদচারণ ঘটায় এই বৈচিত্রময়ী জেলার স্বপ্নিল প্রান্তরে ।
দেশের সবকয়টি জেলার শিক্ষার্থীরা এখানে আছে। তবে ধারনা করা হয় নোয়াখালীর পরই নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যায় কুমিল্লা জেলার অবস্থান দ্বিতীয়।
কৃত্রিমতার ছোঁয়ালাগা প্রকৃতির আশীর্বাদপুষ্ঠ এই বিশ্ববিদ্যালয়টির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় যেকোন পথযাত্রীকে বিমুগ্ধ করে দিবে।
নোবিপ্রবির প্রধান ফটকের ভেতর দিয়ে দৃষ্টি গেলেই আর ফেরাতে ইচ্ছা করবেনা।
ফটক পার হলেই চোখের সামনে দৃশ্যমান থাকে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল।তারপাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও জামে মসজিদ। বিশালাকার প্রশাসনিক ভবনের সামনে পুষ্পশোভিত মুক্তিযুদ্ধ চত্বর। হাজী ইদ্রিস অডিটরিয়াম ( নোবিপ্রবি টি.এস.সি)।
২ টি একাডেমিক ভবন, দৃষ্টিনন্দন লাইব্রেরী ভবন, ৫ টি আবাসিক হল ( ২টি নির্মানাধীন)।

নোবিপ্রবির নীল দীঘি। অন্যরকম জলরাশিরর সমাহার। ক্লাশ ছুটিতে কিংবা পড়ন্ত বিকেলে দলবেঁধে আড্ডার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয় এই নীল দিঘীর তীর ঘেঁষা সবুজ ঘাসে।
দীঘির অতল জলরাশি তীরে বসা যুগলবন্ধিদের মুগ্ধ করে রাখে।
গানের আসরে গিটারের টুংটাং শব্দে পার্ক ক্যাফেটেরিয়ার চারপাশ বিমোহিত রাখে আড্ডাবাজদের।
ক্যাম্পাসের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের দৌড়ঝাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ তার স্বাভাবিক চাঞ্চল্যতা ফিরে পায়।
বৃষ্টির দিনে ময়নাদ্বীপ কে ঘিরে রহস্যের গন্ধটা থেকেই যায়। নৌকাযোগে সেখানে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকের স্বপ্নেই ভালো মানায়।
নোবিপ্রবি লন্ডন রোডের ( শিক্ষকদের আবাসিক এলাকার ভেতরের রাস্তা) আশপাশে ঋতুকালে ধবধবে সাদা কাশফুলের সমাহার দেখেই মন জুড়ে যায়। তখন গাইতে ইচ্ছে করে “আমার মন যেখানে, হৃদয় সেখানে”
নোবিপ্রবি ব্যাকলগ বন নামে পরিচিত সেই বিখ্যাত বন নিয়ে বিতর্ক চলছে, চলবে। ধারনা করা হয়, ব্যাকলগ দিয়ে এই বনে এসে কেও কেউ স্বস্তি খুজে।

হতাশার মোড়! একেকটি করুন ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে হতাশদের একীভূত করে। দেশের প্রায় সবকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম একটি প্রসিদ্ধ মোড় থাকে। নোবিপ্রবিও কম যায়না। এই মোড়ের পেছনের ইতিহাস চরম হৃদয়বিদারক।

পড়ন্ত বিকেলে কিছু মানানসই জুটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। অনেকের ভবিষ্যত বন্ধনটা এখান থেকেই শুরু।
বন্ধনটা যে আয়নিক!!!
ভালোবাসার গল্প,ভালোলাগার গল্পে নোবিপ্রবিও কম যায়না।
হাজারো ভালোবাসা,হাজারো গল্প, হাজারো স্মৃতি আর হাজারো তরুন- তরুণীর পদচারনায় নোবিপ্রবির ক্যাম্পাস মুখরিত থাকে প্রতিটি মুহুর্ত।
ভালো থাকুক ভালোবাসার ক্যাম্পাস,,ভালো রাখুক ভালোবাসার ১০১ একর !

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com