চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক উল্থান : মার্কিন নীতি নির্ধারকরা উদ্বিগ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই ২০১৮ | ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ |

চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক উল্থান : মার্কিন নীতি নির্ধারকরা উদ্বিগ্ন

আনোয়ারুল হক আনোয়ার : অর্থনীতিতে ২য় এবং সামরিক শক্তিতে ৩য় শক্তি চীনের ক্রমবর্ধমান উল্খানে উদ্বিগ্ন মার্কিন নীতি নির্ধারকরা । এক কথায় ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে চীন । বিষয়টি কেন্দ্র করে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্তাব্যক্তিরা চীনের উদ্দেশ্যে প্রায়ই হুশিয়ারী উচ্চারন করে । মার্কিন সেনা বাহিনীর একাধিক জেনারেল বলেন, রাশিয়া নয় – চীন হচ্ছে আমেরিকার প্রধান শত্রু । সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতা চীরস্থায়ী করার পর পরই ওয়াশিংটনের কপালে ভাঁজ পড়ে । তাদের অভিযোগ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু করেছেন । সম্প্রতি আমেরিকায় অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা ফোরামের বৈঠকে চীনের উল্থানে উদ্বেগ প্রকাশ ও করনীয় সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করা হয় । ফোরামের তৃতীয় দিনের অধিবেশনে সিআইএর পূর্ব এশিয়া মিশন সেন্টারের উপ সহকারী পরিচালক মাইকেল কলিন্সের বক্তব্যের পর এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টেফার রে ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ড্যান কোটস চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মারাত্নক বিপদ বলে উল্লেখ করেন ।

উক্ত ফোরামে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন যে, চীনের সমরিক বাজেট বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম, বিশ্বের বৃহত্তম স্থল বাহিনী সম্পন্ন চীনের বিমান বাহিনী বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম, ৬০টির বেশী সাবমেরিন ও ৩০০টি যুদ্ধ জাহাজের এক নৌবাহিনী । এর সকল ডিপার্টমেন্টেই আধুনিকায়ন ও উন্নতকরনের চেষ্টা চলছে । তারা আরো বলেন, গত এক বা দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখেই চীন তা করছে । গত মে মাসে চীন তার ৫০হাজার টনের বিমানবাহী জাহাজের উদ্ধোধন করেছে । চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কমিউনিস্ট পার্টির ব্যানারে “ বিশ্বমানের নৌবাহিনী” নির্মাণের ঘোষনা দেন । একই সময় চীন ভারত মহাসাগরে কিছু সমূদ্র বন্দর নির্মাণ করছে যা জিবুতি পর্যন্ত বিস্মৃত । চীন গত বছর সেখানে দুইটি যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করেছে – যে গুলোর সেনা সংখ্যা অজ্ঞাত । এটি হচ্ছে বর্হি:বিশ্বে চীনের প্রথম সামরিক ঘাঁটি । ফলে চীনের উল্থানরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের উপর গুরুত্বারোপ করা হয় ।

বিশ্বে অর্থনৈতিক শক্তির শীর্ষ স্থানটি এখনো আমেরিকার দখলে দ্বিতীয় স্থানটি চীনের কব্জায় । চীন অর্থনৈতিক শীর্ষ স্থান দখলে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে । অপরদিকে সামরিক শক্তির পরিসংখ্যানে এখনো ওয়াশিংটন শীর্ষে রয়েছে। অার ২য় স্থানে রয়েছে রাশিয়া । ফলে চীনের টার্গেট ওয়াশিংটনকে অতিক্রম করা । এক সময় কতিপয় ইস্যুতে চীন – রাশিয়া দ্বন্ধ ছিল । বিগত দুই দশকে উভয় দেশের সম্পর্ক উন্নত হয়েছে । চীন ও রাশিয়া একে অপরের প্রতি হুমকি নয় – বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বিপরীতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অলিখিতও থাকতে পারে । এখন ওয়াশিংটনকে পেছনে ফেলার প্রতিযোগীতায় লিপ্ত চীন ও রাশিয়া । উল্লেখ্য, সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের পূর্বশর্ত হচ্ছে, মেধা ও অর্থনৈতিক সামর্থ । এক্ষেত্রে চীন দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে । উপগ্রহ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সোর্স থেকে সংগৃহীত তথ্যে চীনের দ্রুত সামরিক উল্থানের চিত্রে ওয়াশিংটনের মাথাব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে । এক সময় ওাশিংটনের একমাত্র প্রতিদ্বন্ধী ছিল রাশিয়া । কিন্তু এখন অর্থনৈতিক শক্তি সম্পন্ন নতুন প্রতিদ্বন্ধি নিয়ে মহা টেনশনে ওয়াশিংটন ।

মার্কিন ও পশ্চিমা সমরবিশারদের মতে চীন যেভাবে দ্রুত এগুচ্ছে – তাতে করে আগামী এক থেকে দেড় দশকে সামরিক শক্তিতে আমেরিকাকে পেছনে ফেলবে । তারা আরো বলেন, সামরিক সেক্টরে চীন ক্রমান্বয়ে মেধাসম্পন্ন হচ্ছে । তারা সামরিক বিষয়াদি প্রতিনিয়ত গোপন রাখতে সক্ষম হচ্ছে । রাষ্ট্রীয়ভাবে তারা প্রতি বছর সামরিক বাজেট ঘোষনা করলেও – আদতে তারা বাজেটের দুই থেকে তিনগুন বেশী সামরিক খাতে ব্যয় করছে । এসব বিষয় মাথায় রেখে ওয়াশিংটন পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহন না করলে চীনকে প্রতিহত করা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হবে । উল্লেখ্য, গত এক দশক চীন সামরিক সেক্টরে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে । সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীতে নিত্যনতুন সমরাস্ত্র সমাবেশ করেছে । চীনের মহাকাশ গবেষনা, উন্নত রাডার সিস্টেম, জ্যামার সিস্টেম, মিসাইল সিস্টেম, আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র, যুদ্ধযান ও যুদ্ধ বিমানসহ প্রায় প্রতিটি সেক্টরে চমক সৃষ্টি করে চলেছে । এছাড়া ব্যবসা বানিজ্যে চীন গোটা বিশ্বকে ”ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড” এ যোগ করতে সমর্থ হলে অর্থনৈতিক ও সামরিক সেক্টরে ওয়াশিংটনের আধিপত্য ধরাশায়ী হবে । ফলে এসব বিষয় মাথায় রেখে ওয়াশিংটন চীনের বিরুদ্ধে নিত্যনতুন খেলায় মেতে উঠেছে ।

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com