একটি নামহীন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের আত্মকথা

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮ | ১২:০৩ অপরাহ্ণ |

একটি নামহীন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের আত্মকথা

১৯৭১সালে যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা কত রাত জেগে পার করেছে তার ইয়ত্তা নেই। দেশ স্বাধীন হল ৪৭বছর হলো।
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। দেশে অনেকগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। দেশের সর্ব দক্ষিণ অন্ঞলে অবস্থিত উপকূলীয় ক্যাম্ব্রিজখ্যাত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

সোনাপুর থেকে ৮-৯কি.মি. পথ পেরুলে মস্তবড় প্রবেশদ্বার, এক নয়নাভিরাম প্রাঙ্গণ। বাম পাশে কেন্দ্রীয় শহীদমিনার নাম “ফাউন্টেন পেন”। প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি, আমি একটা দীর্ঘশ্বাস । আমার কোন নাম নেই, নামহীনের জাতনা সবাই উপলব্ধি করতে পারেনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ আমার স্বজাতি ভাই নাম ‘অপরাজেয় বাংলা’, জাহাঙ্গীরনগরে মাস্তুতো ভাই নাম ‘সংশপ্তক’, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইদের সবার বড় ‘সাবাস বাংলাদেশ ‘ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

ঈদে সব ক্যাম্পাস ছুটি হয় শিক্ষার্থীরা বাড়ি যায়, আমার ছু্টি নেই। আমাকে পুতে রেখেছে, আমার কাজই হলো শিরদাঁড়া সোজা করে দাড়িয়ে থাকা। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ভাইয়েরা খোঁজ নেয়ার জন্য বার্তা পাঠায় তবে বেনামে, কি করবে! বলুন? সম্বোধন করার মতো আমার যে সেই নাম নেই।

এখনকারযুগে বিশেষ করে পাশ্চাত্যে কুকুরের ও নাম হয় ‘টমি’, ‘রাজা’, ‘দেবদাস’। গরুর নাম হয় ‘মহেশ’, ‘লালী’। শুধু আমার কোনো নাম নেই।

২০১৩সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমার উদ্ভোধন কার্য সম্পাদন করেন, পিতৃতূল্য তৎকালীন উপাচার্য স্যার সাঈদুল হক চৌধুরী, তার নামের টাইটেল এ বংশপরম্পরা বহন করেন তিনি, কিন্তু আমাকে তিনি আদি পরম্পরা, মুক্তিযুদ্ধ পরম্পরা কোন ভাগেই ঠাই দিতে পারেন নি। বর্তমান উপাচার্য স্যার বড় মাপের মানুষ, হয়তো তাঁকে কেও আমার কথা বলেনি। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে শুনেছি তাঁহার ব্যপক ধ্যান-জ্ঞান। যখন জাতীয় দিবসগুলোতে আমার পাদদেশে পতাকা উড়ানোর জন্য তিনি দাড়ান তখন মাটিতে লুটিয়ে প্রনাম করে বলতে মন চায়, ‘দাদা আমায় একটা নাম দাও, পরিচয় দাও, বাঁচার মতো বাঁচতে দাও।’

খুব ইচ্ছা জাগে চিৎকার করে জানান দেই, ৩০লক্ষ শহীদের রক্তে গাঁথা আমর বক্ষ। বীরত্বের এক উজ্জল নিদর্শন আমি তবু আমাকে নিয়ে কেন এতো তুচ্ছ তাচ্ছিল্য।

কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়, নিরাপদ সড়ক চাই স্লোগান ওঠে, আমি কিছু বলতে পারিনা। বিজয়ের বাণী ডু্ঁকরে কাঁদে মাথাচাড়া দিতে ওঠে চায় ‘আমার একটা নাম চাই, আমার একটা ডাক চাই, আমার একটা পরিচয় চাই’। যাতে থাকবে বিজয়ের স্বাদ, যার থাকবে চেতনার উন্মাদনা, হটাৎ আগন্তুক এর জন্য আমি হবো একটি বিস্ময়ের নাম।

হয়তো ১৫বছরে হয়নি, হয়তো আরো ১৫তেও হবেনা তবু আশায় বুক বাঁধি বৃদ্ধকালে আমারও একটা নাম হবে, আমিও সগৌরবে অন্য ভাইদের বলবো আমি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ আমি, বিজয় -৭১হতে চাইনা আমি আপন মহিমায়, আপন নামে সগৌরবে জ্বলজ্বল করে জ্বলতে চাই, ঠিক পূব আকাশে ঐ তারার মতো বহুদূর তবু জলছেই। নাম তার ‘শুকতারা’ দূরে হলেও তার নামটা সবাই চেনে।

এ.এইচ.এস.প্রীতম
শিক্ষার্থী
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com