ব্রেকিং নিউজ

x

সাদিকুর রহমান পরাগ এর লেখা:মানুষ-৭

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২:২২ অপরাহ্ণ | 357 বার

সাদিকুর রহমান পরাগ এর লেখা:মানুষ-৭

চলার পথে আমরা বিচিত্র সব মানুষের মুখোমুখি হই। অনেক মানুষের কান্ডজ্ঞানের এত অভাব, যা দেখে রীতিমতো ভিরমি খেতে হয়। আজকে সেরকম এক লোকের কথা বলি। ঘটনাটা ঘটেছিল ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে।
মুন্না ভাইকে আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেলে। মুন্না ভাই মানে ফুটবলার মোনেম মুন্না। আজকে হয়তো বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচিত করেছে ক্রিকেট। অনেক দেশে গেলে সেখানকার মানুষ জানতে চায় মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মুস্তাফিজ এদের সম্পর্কে। তখন বুকটা ভরে ওঠে। অথচ আমাদের দেশে এক সময়কার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ছিল ফুটবল। সেই জনপ্রিয়তা এসে ঠেকেছে আজ তলানিতে। এখনকার প্রজন্ম হয়তো বিশ্বাস-ই করবে না যে এই জাতি এক সময় কতটা ফুটবল পাগল ছিল। আবাহনী-মোহামেডান খেলা মানে দেশ দুইভাগে বিভক্ত। শহর জুড়ে সব বাড়িতে প্রিয় ক্লাবের পতাকা উড়তো। ঢাকা শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ তৈরি থাকতো। যে কোন সময় দাঙ্গা লেগে যেতে পারে এই আশঙ্কায়। আর আশঙ্কাই বা বলি কেন, দাঙ্গা তো সত্যি সত্যি লেগে যেত। এ-রকম ছিল আমাদের দেশের ফুটবল উন্মাদনা। আমাদের দেশের ফুটবলের সেই স্বর্ণযুগের রাজকুমার ফুটবলার মোনেম মুন্না। খুবই জনপ্রিয় একজন ফুটবলার ছিলেন। লীগে খেলতেন আবাহনীর হয়ে। জাতীয় দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খেলেছেন কোলকাতার ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের হয়েও। পশ্চিম বঙ্গেও ছিল তার ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। কোলকাতা এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশনে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, মুন্নাকে চিনি কিনা। ইমিগ্রেশন অফিসারটি মুন্নার ব্যাপক ভক্ত। আমার দেশের ফুটবলারকে নিয়ে ওরা মেতে ওঠে ভাবতেই গর্বে বুকের ছাতিটা বেড়ে যায়।
সেই মুন্না ভাই অসুস্থ হয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে। ডাক্তাররা কোন আশার বাণী শোনাতে পারছে না। অনেক আগেই তার কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়েছিল। কিন্তু এবার তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তার ভক্ত-অনুরাগী-শুভানুধ্যায়ী অনেকের সঙ্গে আমিও প্রতিদিন বসে থাকি হাসপাতালের সামনে সুখবরের আশায়।
২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বসে আছি বাংলাদেশ মেডিকেলের সামনে। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিব সাবের ভাই ফোন করে জানতে চাইলেন হবিগঞ্জের খবরটা শুনেছি কিনা। তখনো আমি জানি না যে, সাবেক অর্থমন্ত্রী এস এম কিবরিয়া সাহেবের উপর গ্রেনেড হামলা হয়েছে। খবর নেয়া শুরু করলাম। শুনেতো স্তম্ভিত। কিবরিয়া সাহেবের উপর গ্রেনেড হামলা হয়েছে। অনেকেই হতাহত। কে বেঁচে আছে – কে মারা গেছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। শুধু জানা গেলে কিবরিয়া সাহেবকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। হবিগঞ্জ সদরের বর্তমান এমপি আবু জাহিরও সেই হামলার শিকার হয়েছিলেন। তার ফোনটি ছিল আরেকজনের কাছে। সেই ফোনে ফোন করে কিছুক্ষণ পরপর সর্বশেষ আপডেট নিচ্ছিলাম : কত দূরে আছে, কতক্ষণ লাগবে, কি অবস্থা উনাদের। কিবরিয়া সাহেবকে সরাসরি বারডেমে নিয়ে আসা হচ্ছে। টুটুল ভাই (এক সময়ের কৃতি ফুটবলার) এবং মৃণালদা (মুন্সিগঞ্জ সদরের বর্তমান এমপি) সহ আমি বারডেমে চলে আসি। এসে দেখি অনেক নেতা-কর্মী এর মধ্যেই বারডেমে ভিড় জমিয়েছে। সবাই উৎকন্ঠিত। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হলেন সাবের হোসেন চৌধুরী, আসাদুজ্জামান নূর, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সহ আরো অনেক নেতৃবৃন্দ।
কিবরিয়া সাহেবকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি বারডেমের গেট দিয়ে যখন ভিতরে ঢুকে তখন ওখানে মানুষের ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। আমরা তখন ওটির বাইরে অপেক্ষা করছি। কেউ একজন খবর নিয়ে আসে- উনি আর বেঁচে নেই, কান্নার রোল ওঠে। আবার আরেকজন খবর নিয়ে আসে, না এখনো বেঁচে আছে। সবাই আশান্বিত হয়ে ওঠে। এরকম একটি দোলাচলের মধ্যে অপেক্ষায় শত শত উৎকণ্ঠিত মানুষ।
হঠাৎ দেখি মৃণালদা টুটুল ভাইকে বলছেন, বলেন তো কী করি। মেজাজটা তো আর ঠিক রাখতে পারতেছি না। ওরে ধইরা মাইর দেওনের দরকার না?
এরকম পরিস্থিতিতে কাকে মারার কথা বলছেন। তাকিয়ে দেখি যার উপর ক্ষেপেছেন, সেই লোক মোবাইল ফোনে কথা বলছে। কথা শুনে বোঝাই যাচ্ছে যে, সে কথা বলছে তার বাসার মানুষের সঙ্গে। কথা বলছে বেশ জোরে জোরে এবং আশপাশে যে মানুষ আছে সেদিকে তার কোন খেয়ালই নেই। ফোনে সে জোরে জোরে বলছিল, …টিভি-টা ছাড়ো, টিভি-টা ছাড়ো জলদি….আমারে দেখাইবো.….এটিএন ধরো আমারে দেখাইবো….।
এ কথা শুনলে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা আসলেই কঠিন। তারপরও এই পরিস্থিতিতে সিনক্রিয়েট করা উচিত হবে না ভেবে ওই লোকটাকে গিয়ে বললাম, ভাই একটু আস্তে কথা বলেন।
আমার দিকে বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে অন্যপাশে চলে গেল লোকটা।
এরকম নির্লজ্জ কান্ডজ্ঞানহীন মানুষও আমাদের মধ্যে বাস করে ভাবতে নিজের কাছেই লজ্জা লাগে।

নোয়াখালীতে যৌন হয়রানির অভিযোগে ডাক্তার আটক

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com