ব্রেকিং নিউজ

x

সাদিকুর রহমান পরাগ এর লেখা মানুষ-৮

মঙ্গলবার, ০২ জানুয়ারি ২০১৮ | ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ | 121 বার

সাদিকুর রহমান পরাগ এর লেখা মানুষ-৮

মানুষ সিরিজে সব সিরিয়াস টাইপের লেখা হয়ে যাচ্ছে। এবারের পর্বে এক মজার লোক সম্পর্কে বলি।

স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। নিয়ন্ত্রিত খাবার, নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, ইত্যাদি এখন হয়ে উঠেছে অনেকের জীবনের অপরিহার্য অংশ। ধানমন্ডি লেক, রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, নিকেতন পার্ক, গুলশান পার্ক, হাতিরঝিল সহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে হাঁটতে দেখা যায়। এসব বিষয়ে যেন মানুষের জ্ঞানের কোন অভাব নেই। সব জানে- কী করলে কী হবে, কোনটা করা উচিত-উচিত না, ইত্যাদি ইত্যাদি। নিজে মানুক বা না মানুক, অন্যকে উপদেশ দিতে তাদের উৎসাহের কোন কার্পণ্য নেই।
তাপসদা। কবীর হোসেন তাপস। খুবই চমৎকার সংস্কৃতিমনা একজন মানুষ। কারো সাতে-পাঁচে নেই। সম্ভব হলে মানুষের উপকার করেন। তার রসবোধ অত্যন্ত প্রখর। খুব মজার মজার ছড়া লিখেন। তার অনেক ছড়াই এক সময় অনেকের মুখে মুখে ফিরতো। যেমন আবৃত্তিশিল্পী রূপাদি-কে নিয়ে লিখে ফেললেন-
‘‘রূপা আমার রূপা
হৃদয় দিয়ে কাপড় কাঁচো
এমন-ই এক ধোপা?”

কিংবা আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যাক-
‘‘মিষ্টি মেয়ে ভয় পেয়ো না, দেবো নাকো হানা
শরীরে আমার ডায়াবেটিস সকল মিষ্টি মানা”
এমনি সব মজার মজার লেখার বের হয় তার উর্বর মস্তিষ্ক থেকে।
এই তাপসদাও তখন প্রতিদিন সকালে বের হতেন। নিয়ম করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জগিং করতেন। তারপর কিছুক্ষণ ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ। এমনি একটা রুটিনের তিনি এখনো আছেন কিনা তা অবশ্য জানা নেই।
তখনকার এক সকালের ঘটনা। ঘটনাটা অবশ্য সরাসরি তাপসদার মুখ থেকে সরাসরি শোনা নয়। শুনেছি আরিফ ভাইয়ের কাছ থেকে। আরিফ ভাই মানে বিশিষ্ট আবৃত্তিকার হাসান আরিফ। আরিফ ভাইও আরেক গল্প বলার মাস্টার। রসিয়ে রসিয়ে উপস্থাপনায় তার জুড়ি নেই। যে কোন সাধারণ ঘটনাও তার বলার ঢংয়ে অসাধারণ হয়ে উঠে। তার বয়ানে যেভাবে শুনেছি ঘটনাটি সেভাবেই লিখলাম। কোথাও কোন অতিরঞ্জন থেকে থাকলে, তার দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ আরিফ ভাইয়ের।
রোজকারের মতোই সকালে জগিং সেরে খালি হাতে ব্যায়াম করছিলেন তাপসদা। যখন বুক ডন দিচ্ছিলেন, তখন পাশে এসে দাঁড়ালো একজন। পাশ থেকে লোকটি বলে যাচ্ছে, নিয়মিত ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সক্কলের উচিত ব্যায়াম করা। সক্কাল সক্কাল ঘুম থেইকা উইঠা হাঁটা, দৌড়ানো উচিত….ইত্যাদি ইত্যাদি।
লোকটির কথায় কর্ণপাত না করে তাপসদা ডন দিয়ে যাচ্ছেন। আর লোকটি তখন সমানে লেকচার দিয়েই যাচ্ছে। কাহাতক আর সহ্য করা যায়। এক পর্যায়ে তাপসদা ব্যায়াম থামিয়ে লোকটির দিকে তাকালেন। লোকটিকে দেখে তো তাপসদা’র মুখ হা হয়ে গেল। এতক্ষণ ধরে যে লোকটি তাকে জ্ঞান দিচ্ছিল, সে-তো নিজেই এক মোটাসোটা অতিকায় লোক। পুরো শরীর জুড়ে চর্বি থলথল করছে। রাগতস্বরে তাপসদা লোকটিকে বললেন, এতক্ষণ যে কথাগুলো বললেন, সেই কথাগুলো যদি আপনি মেনে চলতেন, তাহলে-তো আপনারও উপকার হতো, আর আপনার শরীরটাও এ রকম হতো না…।
ব্যাস। আর যায় কোথায়। তাপসদার কথা শুনে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন ভদ্রলোক।
-কি কইলেন, আমারে ব্যায়াম করবার কইলেন?
…ওই মিয়া, আমারে কি ছোডোলোক ভাবছেন…আমারে কন ব্যায়াম করতে। আমি কি ফকিরন্নীর পোলা নাকি?…
….জীবনে কুনু কাম নিজের হাতে করি নাইক্কা। জগ থাইক্কা পানিও ঢাইল্যা খাই না। পানি ঢাইলা দেওনের লাইগা-ভি লোক আছে। এই যে পার্কে আহি- কুনুদিন হাইটা আহি নাইক্কা…ওই যে গাড়িডা দেখবার লাগছেন….ওইডা দিয় আইছি….গাড়ি-থন নাইমা সিধা এইহানে আইছি, আবার গাড়িতে উইঠা বাইত যামুগা…..আর আমারে কয় ব্যায়াম করবার…..
তারপর নিজের বিশাল বপুর দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ করে বলে, ….ওই মিয়া, এই যে…এই যে… দেখতাছেন, এইগুলান এমনি এমনি হয় নাইক্কা। দিতে হয় – দিতে হয়। এইগুলার জন্য ঘি-তেল-মাখন দিতে হয়। বুঝবার পারছেন – এই খানে দিতে হয় – দিতে হয়….এমনি এমনি এইগুলান হয় না। আর আমার লগে আইছেন মজা লইতে….আমারে কন ব্যায়াম করবার…।
তাপসদা বুঝে যায় যে, নিজের বিশাল বপু নিয়ে গর্বিত এই লোকের সঙ্গে কথা না বাড়ানোই মঙ্গলজনক। ফেরার সময় মাথার মধ্যে লোকটার কথাগুলো বাজছিল, ….এইগুলান এমনি-এমনি হয় না….দিতে হয়, দিতে হয়…ঘি-তেল-মাখন দিতে হয়…

নোয়াখালীর সেনবাগে ইয়াবা ও গাঁজা সহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com