“লন্ডন রোড”দেখতে হলে চলে আসুন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ | ৪:৩৭ অপরাহ্ণ | 2083 বার

“লন্ডন রোড”দেখতে হলে চলে আসুন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশের দক্ষিণান্ঞলে নোয়াখালী জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী জেলা শহর থেকে ৯কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত ১০১একরের ছোট্ট একটি ক্যাম্পাস। ছোট্ট হলেও ভ্রমণ পীপাসুদের জন্য সবুজের ছাঁয়াঘেরা এই নোবিপ্রবি নোয়াখালীর অন্যতম পর্যটন স্থান। ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখে দুটি বিশাল আকারের গেট; গেট পেরুতেই একটি ছোট্ট বাংলাদেশ, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় বীর, দেশ ও মানুষের অবিসংবাদিত নেতা “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান” এর মোরাল।
চোখ ফেরালেই বামপাশের সেই বিখ্যাত “ফাউন্টেন পেন”, জাতীয় দিবসগুলোত এটি শহীদমিনার, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এটি সাংস্কৃতিক কর্মীদের মুক্তমন্ঞ। দেখতে কলম আকৃতির এই সুবিশাল স্তম্ভটি সবার কাছে আকর্ষণের মূলকেন্দ্র। FB_IMG_1512324184498
লন্ডন রোড, ভিসির বাংলোর সামনের এই রাস্তার দুপাশে ঝাঁউগাছ, গরম, ঠান্ডা, শীত, বর্ষা সবসময়ের মৃদু বাতাস মন প্রাণ জুড়িয়ে দেয় এই রাস্তা ধরে চলা পথিকের, এ জন্যই এর নাম লন্ডন রোড। ক্যাম্পাসের প্রায় কোল ঘেঁষে আছে ভিসির বাংলো। “হাঁতুড়ি” এর মতে দেখতে এই বাংলো বাড়ির পাশে আছে চমৎকার একটি পুকুর। শিক্ষার্থীদের সবার অন্যতম আগ্রহ এই ভিসির বাংলো নিয়ে,কিন্তু ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার খাতিরে ভাইস চ্যান্সেলর এম. অহিদুজ্জামান সর্বসাধারণের প্রবেশ বাংলোতে নিষিদ্ধ করেছেন, এর দেয়ালে লাগানে হয়েছে বৈদ্যুতিক ফাঁদ।
FB_IMG_1512324158693একাডেমিক ভবন ১, এর পাশ দিয়ে ঠিক পশ্চিম দিকে চলে যাওয়া রাস্তার মোড়টি “হতাশার মোড়” নামে পুরো নোয়াখালীতে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিনকার কথা, কেন এক প্রেমিক প্রেমিকার বিচ্ছেদের বিরহে জড়জড়িত এই হতাশার মোড়ে শিকার্থীদের অবসর সময়ে বসে আড্ডা দেয়ার অন্যতম পছন্দ। চলে যাই ময়না দীপের পাড়ে, সুবিশাল জলরাশির মাঝে ছোট্ট একটা টুকরো, আর এই ভূমিখন্ডটুকু এই জায়গার নাম এর পরিপূর্ণতা দিয়েছে। শীতকালে এই দ্বীপের উপর গগণ ছুঁয়ে দাড়িয়ে থাকা গাছগুলোর উপর এসে ভীড়জমায় কয়েকঝাঁক অতিথি পাখি। আহ্ কি যে শান্তি যখন পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয় এর আশেপাশের পরিবেশ।FB_IMG_1512324196753

নীল পানির স্বচ্ছ আভা, কেও ডাকে ডাবের পানি,কেও বলে আনারের পানি,, তবে হ্যাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈ কি আশেপাশের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেদের কাছে গোসল করার মত এ এক সেরা স্থান, তাদের ভাষ্যমতে এ দীঘির পাড়ে আসলে পানির স্বচ্ছতা ও নীলাভা তাদের কে মারাত্নকভাবে টানে, এ এক মায়ার টান। এ দীঘীর ঘাটলায় বসে পানিতে পা ডুবিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকেনী এমন সংখ্যা হাতে গুনা, হতাশার মোড়, নীলদীঘী ও ময়নার দ্বীপ হল নোবিপ্রবি ফটোগ্রাফী ক্লাব ও নোবিপ্রবি নাট্য ও চলচ্চিত্র ক্লাব এর প্রধাণ শ্যুটিং স্পট।

ফিরে যাই নোবিপ্রবির প্রবেশমুখে, মুক্তিযুদ্ধের একটি স্তম্ভ, বিশাল আকৃতির এই স্তম্ভটির বিশেষত্ব হল এর চারপাশের বেষ্টনী করা গোল চত্বর, আর এ চত্বরের মাঝে অজস্র ফুলগাছ । বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী এই গোল চত্বরে বসে, আড্ডা দেয়, নোবিপ্রবির টি.এস.সি নির্মাণকাজ বিলম্বিত হওয়ায় এটিই এখানকার অঘোষিত টি.এস.সি।

নির্মাণাধীন “জিরো” হলের কথা বলতেই হয়, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এই ছাত্রী হলের আকার ইংরেজী ‘0’ এর মতো, যা সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

ধারণা করা হয় যে, এতো অল্প জায়গাতে বাংলাদেশের আর কোথাও এতে এতো দর্শনীয় স্থান নেই। মূল শহর থেকে অনেক দূরে হলেও, ক্যাম্পাসে আসা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এ প্রাকৃতিক লীলাভূমির অপার সৌন্দর্য্য প্রবলভাবে পুলকিত করে, পরিশ্রান্ত করে শত ক্লান্তি। নোয়াখালী ও নোয়াখালীর আশেপাশের জেলাগুলো থেকে বেড়াতে আসা মানুষগুলো পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে পর্যটনে আসলে তাদের পছন্দের তালিকায় সবার আগে আসে এই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

হাজার বছর বেঁচে থাকুক, চির অমলিন থাকুক বাংলাদেশের “উপকূলীয় অক্সফোর্ড”, শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের নোবিপ্রবি।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মুজিব সেনাকে বানানো হচ্ছে জিয়ার সৈনিক!

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com