মিয়ানমারে ফিরলেই প্রত্যেক রোহিঙ্গা পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি

বৃহস্পতিবার, ০৭ মার্চ ২০১৯ | ৪:৩২ অপরাহ্ণ |

মিয়ানমারে ফিরলেই প্রত্যেক রোহিঙ্গা পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি হলে তাদের প্রত্যেক পরিবারকে ৬ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ টাকা) অর্থ সহয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীন সরকারের এশিয়া বিষয়ক দূত সান গুঝিয়াং। বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বেনার নিউজ।

বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা এবং রোহিঙ্গাদের এক নেতাও গত মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সান গুঝিয়াং গত ৩ মার্চ কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে ১৫ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারী রোহিঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানিয়েছেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) মহাসচিব সায়েদ উল্লাহ। বেনার নিউজকে তিনি বলেন, ৫ থেকে ৬ হাজার ডলার দিলে আমরা ফিরে যাব কিনা সে বিষয়ে তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল।

সায়েদ উল্লাহ আরও বলেন, আমরা তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছি যে, আমাদের (রোহিঙ্গা) নাগরিকত্ব প্রদান এবং অন্যান্য দাবিগুলো মেনে নেয়া না হলে আমরা কোনভাবেই ফিরে যাব না।

যদিও এ বিষয়ে রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লাহ করা হয়।

সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনার নিউজকে জানান, চীনা প্রতিনিধির দলটি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ৬ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ সহায়তা দিতে চেয়েছিল।

বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিভাগের কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয় চীনা প্রতিনিধিদল ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিল। তারা রোহিঙ্গাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করেছিল।

এদিকে বেইজিংয়ের সাবেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ বলেছেন, আন্তর্জাতিক চাপ থেকে মিয়ানমারকে রক্ষা করার জন্য চীন শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, চীন রাখাইন রাজ্যে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা বিষয়গুলো যদি অমীমাংসিত থেকে যায়, তাহলে তাদের পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে পারবে না।

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com