ব্যতিক্রম লাইব্রেরী: বইয়ের দাম ৩০ টাকা কেজি!

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১২:০৯ অপরাহ্ণ |

ব্যতিক্রম লাইব্রেরী: বইয়ের দাম ৩০ টাকা কেজি!

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার আগে থেকেই জহিরের স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়া। একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি নিয়মিত চাকরির পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। জহির ফোকলোর বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মাসের খরচ বাবদ বাবার দেয়া টাকা থেকে কিছু অংশ বাঁচিয়ে প্রতি মাসে নতুন নতুন বই কিনে আনত সে। তবে লাইব্রেরীগুলোতে বইয়ের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকলে আগের মত বই কেনা হয়ে উঠছিল না তার। এমতাবস্থায় তার সহপাঠি সাব্বির একটি লাইব্রেরীর খোঁজ দিল। সেখানে গিয়ে আরেকটু অবাক হল জহির। প্রয়োজনীয় সকল বই কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ৫০টাকা কেজি বই, মাসের শেষ দিন সেই বইগুলোর দাম মাত্র ৩০টাকা।
এমন হাজারো গরীব মেধাবি শিক্ষার্থীদের বইয়ের জোগান দিচ্ছে রাজশাহীর একটি লাইব্রেরী। লাইব্রেরীটির নাম ‘ব্যতিক্রম লাইব্রেরী’। এখানে মাত্র পঞ্চাশ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে পঞ্চম শ্রেণী থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরির বইগুলো। রাজশাহী শহর থেকে ৫কিলোমিটার পূর্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারের পশ্চিমে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশেই এই লাইব্রেরী অবস্থিত। বিনোদপুর বাজার থেকে একটু পশ্চিমে এসে হাতের বামদিকে দেখা যাবে ‘ব্যাতিক্রম লাইব্রেরী’র ব্যনার। ব্যনারের পাশে গলিধরে এগুলেই চোখে পড়বে সেই লাইব্রেরীটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সেই লাইব্রেরীতে তাদের পছন্দের বই খুঁজতে ব্যস্ত। বই প্রিয় শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ধরে তাদের প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ করার পর দোকানে রাখা ডিজিটাল মেশিনে ওজন করে নিচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভীড় দেখা যায়, তবে বিকেলের পর থেকে বই পাগল শিক্ষার্থীদের পদচারণা বেশি হয়। অনেক সময় বই কেনার জন্য তাঁদের লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
কথা হয় লাইব্রেরীতে বই কিনতে আসা রাফির সাথে। রাফি রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর থেকেই আমি প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে একবার এখানে এসে পছন্দের বই নিয়ে যাই। অল্প টাকায় বেশ সুন্দর বই পাওয়া যায়।
কি ধরনের বই পাওয়া যায় জানতে চাইলে উর্দ্বু বিভাগের শিক্ষার্থী তাসবিয়া ইসলাম তুলি বলেন, এখানে গল্প, উপন্যাস, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক, চাকরি-ভাইবা, ব্যাংক জবসহ ব্যবসা অনুষদের বইগুলো বেশি পাওয়া যায়। অল্প টাকায় এমন বই পাওয়া আমাদের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ।
আজ থেকে ৩ বছর আগে মো. বদর উদ্দিন শিক্ষার্থীদের কল্যানের উদ্দেশ্যে এ লাইব্রেরীর প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, আমাদের লাইব্রেরীতে স্বল্পমূল্যে যে বই পাওয়া যায় তা অন্য লাইব্রেরীতে কিনতে গেলে অনেক বেশি মূল্য দিয়ে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা এ লাইব্রেরীর ২টি শাখা করেছি। মূল লাইব্রেরী থেকে ভালো মানের বইগুলো বাছাই করে অপর শাখায় রাখা হয়েছে। সেখানে প্রতি কেজি বই ১০০টাকা এবং মাসের শেষ দিনে ৬০টাকা করে বিক্রি করি। এতে করে শিক্ষার্থীদের বই বাছায়ের ক্ষেত্রে সময় ও শ্রমের অপচয় কম হবে বলে আশা করছি।
শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়–য়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। একাডেমিক অথবা চাকরির প্রস্তুতির জন্য অনেক বই প্রয়োজন যা একজন গরীব শিক্ষার্থীর পক্ষে কেনা কষ্টকর। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় এসব বই পুরাতন লাইব্রেরীতে পাওয়া যাচ্ছে এটা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ইতিবাচক ভ‚মিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com