বৃষ্টির দিনে যে ৬টি আমল করতেন রাসুল [সা.]!

মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৫:৩৭ অপরাহ্ণ |

বৃষ্টির দিনে যে ৬টি আমল করতেন রাসুল [সা.]!

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ [সূরা আহজাব : ২১]। তাই প্রত্যেক ঈমানদারের কর্তব্য জীবনের সব অনুষঙ্গে আল্লাহর রাসুলের আদর্শ তথা সুন্নতের অনুসরণ করা। আল্লাহর রাসুলের অনুসরণেই নিহিত রয়েছে মানবজাতির ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি। বর্ষাকালের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা আজ বৃষ্টিকালীন কয়েকটি সুন্নত আমল শিখে নেব। ১. বৃষ্টির পানি স্পর্শ করা : বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা হয়ে নামে রহমতের ধারা। তাই সুন্নত হলো বৃষ্টির ছোঁয়া পেতে বস্ত্রাংশ মেলে ধরা। আনাস [রা.] বলেন, ‘আমরা রাসুলুল্লাহ [সা.] এর সঙ্গে থাকাকালে একবার বৃষ্টি নামল। রাসুলুল্লাহ [সা.] তখন তাঁর পরিধেয় প্রসারিত করলেন, যাতে পানি তাকে স্পর্শ করতে পারে। আমরা বললাম, আপনি কেন এমন করলেন? তিনি বললেন, কারণ তা তার রবের কাছ থেকে মাত্রই এসেছে।’ [মুসলিম : ৮৯৮]। ২. বৃষ্টির দোয়া পড়া : রহমতের বৃষ্টি দেখে দোয়া পড়া সুন্নত। আয়েশা [রা.] বলেন, রাসুলুল্লাহ [সা.] বৃষ্টি হতে দেখলে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা ছাইয়িবান নাফিয়া’। [অর্থাৎ হে আল্লাহ, এমন বৃষ্টি আমাদের ওপর বর্ষণ করুন যাতে ঢল, ধস বা আজাবের মতো কোনো অমঙ্গল নিহিত নেই।] [বোখারি : ১০৩২]। ৩. বৃষ্টি চলাকালে দোয়া করা : বৃষ্টি চলমান সময়ে দোয়া কবুল হয়। তাই এ সময় দোয়ার জন্য লুফে নেয়া সুন্নত। সাহল বিন সাদ [রা.] বলেন, ‘দুই সময়ের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না কিংবা [তিনি বলেছেন], খুব কমই ফেরত দেয়া হয়- আজানের সময় দোয়া এবং রণাঙ্গণে শত্রুর মুখোমুখি হওয়াকালের দোয়া। অন্য বর্ণনা মতে, বৃষ্টির সময়ের দোয়া। [আবু দাউদ : ২৫৪০]। ৪. বৃষ্টির পরে দোয়া পড়া : জায়েদ ইবনে খালেদ জুহানি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ [সা.] হুদাইবিয়ায় রাতে বৃষ্টির পর আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। নামাজ শেষে তিনি লোকজনের মুখোমুখি হলেন। তিনি বললেন, তোমরা কি জানো তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বলেছেন, আমার বান্দাদের কেউ আমার প্রতি ঈমান নিয়ে আর কেউ কেউ আমাকে অস্বীকার করে প্রভাতে উপনীত হয়েছে। যে বলেছে, বিফাদলিল্লাহি ওয়া রহমাতিহি তথা আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি। ফলে সে আমার প্রতি ঈমান আর তারকার প্রতি কুফরি দেখিয়েছে। আর যে বলেছে, অমুক অমুক তারকার কারণে, সে আমার প্রতি অস্বীকারকারী এবং তারকার প্রতি ঈমানদার।’ [বোখারি : ৮৪৬; মুসলিম : ১৫]। ৫. অতি বৃষ্টি বন্ধে দোয়া পড়া : আনাস [রা.] বলেন, একদা জুমার দিন রাসুলুল্লাহ [সা.] খুতবা দেয়া অবস্থায় জনৈক সাহাবি মসজিদে প্রবেশ করে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! জীবজন্তু মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে, পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে, আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের জন্য বৃষ্টি প্রার্থনা করুন। তৎক্ষণাৎ রাসুলুল্লাহ [সা.] দুই হাত সম্প্রসারিত করে দোয়া করলেন, ‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা। আল্লাহুম্মা আলাইকা বিল আকাম ওয়াজজিরাব ওয়া বুতুনিল আওদিয়া ওয়া মানাবিতিশশাজার’। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করো! হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করো! হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করো! আনাস [রা.] বলেন, আল্লাহর শপথ! তখন আকাশে বিন্দুমাত্র মেঘের ছোঁয়াও ছিল না, রাসুলুল্লাহ [সা.] এর দোয়ার পর দিগন্তে মেঘের উদ্ভাস হয়, কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো আকাশ ছেয়ে ফেলে, অতঃপর মুষলধারে বৃষ্টি আরম্ভ হয়। আনাস [রা.] বলেন, আল্লাহর শপথ! পরবর্তী ছয় দিন যাবৎ আমরা সূর্য দেখিনি। সপ্তাহান্তে পরবর্তী জুমায় পুনরায় ওই ব্যক্তি যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন রাসুলুল্লাহ [সা.] খুতবারত অবস্থায়, ওই ব্যক্তি আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ধনসম্পদ সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পানিতে পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে, আল্লাহ তায়ালার কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার প্রার্থনা করুন। আনাস [রা.] বলেন, রাসুলুল্লাহ [সা.] দুই হাত উঁচিয়ে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের ওপর থেকে আশপাশের অঞ্চলে সরিয়ে দাও, পাহাড়-মরু, খাল-বিল ও বনাঞ্চলের দিকে সরিয়ে নাও! বর্ণনাকারী বলেন, তখনই বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, অতঃপর আমরা নামাজান্তে রোদের মধ্যে বের হই।’ [বোখারি : ১০১৩; মুসলিম : ৮৯৭] ৬. ঝড়ের সময় দোয়া পড়া : রাসুলুল্লাহ [সা.] এর প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা [রা.] বলেন, ‘যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইতো; তখন রাসুলুল্লাহ [সা.] এর চেহারায় পেরেশানির ভাব ফুটে উঠত। এ অবস্থায় এদিক-সেদিক পায়চারী করতে থাকতেন এবং এ দোয়া পড়তে থাকতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইনি্ন আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা-ফিহা ওয়া খাইরা মা-উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজু বিকা মিন শার্রিহা-ওয়া শার্রি মা-ফিহা-ওয়া শার্রি মা-উরসিলাত বিহি।’ [অর্থাৎ হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে এ ঝড়ের কল্যাণ কামনা করছি। যে কল্যাণ রয়েছে এর মধ্যে এবং যে কল্যাণ পাঠানো হয়েছে এর সঙ্গে। আর তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এ ঝড়ের অকল্যাণ থেকে। যে অকল্যাণের মধ্যে রয়েছে এবং যে অকল্যাণ দিয়ে একে পাঠানো হয়েছে।] অতঃপর যখন বৃষ্টি হতো, তখন তিনি শান্ত হতেন।’ আয়েশা [রা.] আরও বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ [সা.] কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি যে, লোকজন মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়ে থাকে, আর আপনি এতে পেরেশান হয়ে থাকেন?’ রাসুলুল্লাহ [সা.] বললেন, ‘আমি এ ভেবে শঙ্কিত হই যে, তা আমার উম্মতের ওপর আজাব হিসেবে পতিত হয় কিনা, কেননা পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর এ পদ্ধতিতে আজাব পতিত হয়েছিল।’ [মুসলিম : ৮৯৯]। মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব সৌজন্যে : আলোকিত বাংলাদেশ

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com