ব্রেকিং নিউজ

x

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’, নতুন মোড়কে কালো আইন!

মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ | ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ | 404 বার

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’, নতুন মোড়কে কালো আইন!

মোহাম্মদ ঈমাম হোসেইন:

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) বিতর্কিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বিলুপ্তির বিধান রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একইসঙ্গে অপব্যবহার রোধে নতুন আইনে ৫৭ ধারাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার ৬২ ধারায় বলা হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারার বিলুপ্তি হবে।’

শফিউল আলম বলেন, ‘৫৭ ধারায় সব ছোট করে লেখা ছিল। সেটা বিস্তারিত ব্রেক-আপ দিয়ে দিয়ে যেটা যে প্রকৃতির অপরাধ সেই আঙ্গিকে শাস্তি, বেশি হলে বেশি কম হলে কম। তদন্ত কীভাবে করা হবে সেটা ডিটেইল (বিস্তারিত) করা হয়েছে, যেটা আগে ছিল না’।( -ইত্তেফাক)

সকল মহলের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে বহুল বিতর্কিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের কুখ্যাত ৫৭ ধারা বাতিল করা হচ্ছে । তবে নতুন মোড়কে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ এর বিভিন্ন ধারায় ৫৭ ধারার মতোই গণমাধম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী কালো বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ আইনের কালো বিধান বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ আবারও আন্দোলন গড়ে তুলবে।
মন্ত্রিসভার জন্য পাঠানো সার সংক্ষেপে দেখা যায়, আইসিটি আইনের অজামিনযোগ্য ৫৭ ধারা বাতিল হলেও নতুন আইনে ৫৪ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এ ধারায় স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের ক্ষেত্রে অপরাধের গুরুত্ব ও দণ্ডের মাত্রার ভিত্তিতে কিছু অপরাধকে আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য এবং কিছু অপরাধকে অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৮ (১) (ক) কে আদালতের সম্মতি সাপেক্ষে আপোষযোগ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো আইনের ২১ ধারায় শাস্তির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে অপরাধের শাস্তি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব করা হলো। এর আগে নীতিগত অনুমোদনের জন্য খসড়া আইনের ১৫(৫) ধারায় বলা হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা, প্রচারণা ও মদত দেয়ার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক ভেটিংকৃত খসড়ায় ‘জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। ভেটিং অনুযায়ী কাউন্সিলের কাঠামো তৈরি করে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের জন্য পাঠিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। নতুন আইনের ধারা ৬২ তে বলা হয়েছে, এ আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা- ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ বিলুপ্তি হয়ে যাবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫২ ধারায় বলা হয়েছে, আইনটি টেকনিক্যাল প্রকৃতির বিধায় বিচারকাজ চলাকালে বিচারক প্রয়োজনীয় মনে করলে কোনো ডিজিটাল অপরাধের টেকনিক্যাল বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত নিতে পারবেন। একই আইনের ৫৭ ধারায় মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত একটি নতুন বিধান যোগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২২শে আগস্ট ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৬ এর বিলের খসড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। ওই সময় মন্ত্রিসভা কিছু পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে আইনটিতে নীতিগত অনুমোদন দেয়।

অনুসন্ধানী সাংবাদকর্মী যখন ‘গুপ্তচর’!

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাবিরোধী ভয়ংকর এ আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের তথ্য উপাত্ত, যেকোনও ধরনের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অথচ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাইবার স্পে ব্যাংক, বীমার একাউন্ট হ্যাক করে অর্থ চুরি করলে সাজা মাত্র পাঁচ বছর জেল এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা!

মূলত একই মুদ্রার উল্টোপিঠ (৫৭ ধারা) ৩২ ধারা সাংবাদিকদের বস্তাবন্ধি করবে, এটা শুধু সাংবাদিক দমন করার আইন!

নোয়াখালীর সেনবাগে ইয়াবা ও গাঁজা সহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com