জিলহজের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব ও আমল

সোমবার, ১৩ আগস্ট ২০১৮ | ২:০৭ অপরাহ্ণ |

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব ও আমল

হিজরি মাসগুলোর মধ্যে বিভিন্ন কারণে জিলহজের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষভাবে হজ ও কোরবানি রয়েছে এ মাসের প্রথম ১০ দিনে। ৯ জিলহজ হজ এবং ১০ জিলহজ কোরবানি ও ঈদুল আজহা পালিত হয়। ইসলামের বড় দুটি ইবাদত এ মাসে। তাও আবার প্রথম ১০ দিনে। তাই এই মর্যাদাপূর্ণ মাসের প্রথম ১০ দিন আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। এ মাসের প্রথম ১০ দিনে এমন কিছু আমল রয়েছে যা আমাদের নেকের পাল্লা অনেক ভারী করে দিতে পারে। জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘জিলহজের প্রথম ১০ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে অন্যান্য দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয়।’ বুখারি। উল্লিখিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, জিলহজের প্রথম ১০ দিনের যে কোনো ইবাদত আল্লাহর কাছে অনেক মর্যাদা রাখে। পবিত্র হজ এই ১০ দিনের মধ্যে থাকায় এর গুরুত্ব ও মর্যাদা আরও বেড়ে গেছে। তাই আমাদের উচিত এই ১০ দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি বেশি বেশি করা। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে এমন কোনো দিন নেই যাতে আল্লাহর ইবাদত করা তাঁর কাছে প্রিয়তর হতে পারে জিলহজের প্রথম ১০ দিন অপেক্ষা। এর প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমান এবং প্রত্যেক রাতের নামাজ কদরের রাতের নামাজের সমান।’ তিরমিজি, ইবনে মাজাহ। এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, জিলহজের প্রথম ১০ দিন রোজা রাখা সৌভাগ্যের বিষয়। এক দিনের রোজায় এক বছরের রোজার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। এক রাতের ইবাদত শবেকদরের ইবাদতের সমতুল্য। তাই আমরা এ সুযোগ লুফে নিতে পারি। রাতগুলোয় যথাসম্ভব তাহাজ্জুদ নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য নফল ইবাদত করতে পারি। এই ১০ দিনের মধ্যে ৯ জিলহজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই কমপক্ষে আমরা সেদিন রোজা রাখতে পারি। জিলহজ মাসে আরও এমন কিছু আমল আছে যা পালন করা সহজ, কিন্তু এর বিনিময়ে আল্লাহর দরবারে রয়েছে অনেক পুরস্কার। এ সম্পর্কে হজরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন জিলহজের প্রথম ১০ দিন আসে আর তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে সে যেন নিজের শরীরের কোনো পশম ও চামড়ায় স্পর্শ না করে। (অর্থাৎ নখ, গোঁফ, চুল ও শরীরের অন্যান্য পশম যেন না কাটে)।’ মুসলিম। এ হাদিসের আলোকে ইসলামী আইনজ্ঞ ওলামায়ে কিরাম বলেন, যারা জিলহজের প্রথম ১০ দিন শরীরের কোনো পশম ও নখ না কেটে ঈদের দিন পশু কোরবানি করার পর কাটবে তারা ভিন্ন একটি কোরবানির সওয়াব পাবে। চাই সে ব্যক্তি পশু কোরবানি করুক বা না করুক। দেখুন, আমরা ধনী হই বা গরিব, পশু কোরবানি করি বা না করি, এ আমলটি করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com