ব্রেকিং নিউজ

x

কোম্পানীগঞ্জে অপ্রতিরোদ্ধ মছন হাজী : গর্ত ধ্বসে নিহত ১

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১২:২৬ অপরাহ্ণ | 56 বার

কোম্পানীগঞ্জে অপ্রতিরোদ্ধ মছন হাজী : গর্ত ধ্বসে নিহত ১

আর সেই স্থানে গর্ত ধ্বসের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার এক পাথর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের শীর্ষ হোতা হিসেবে সেখানে রয়েছেন হাজী মাহমুদ হোসেন উরফে মছন হাজী। অবাধে পাথর উত্তোলনের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এখন হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টিও বিজিবির পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে।

জানা যায়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর পাথর কোয়ারী এলাকায় খন্ড খন্ড গর্ত করে বোমা মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছেন সেখানকার পাথরখেকোরা। আর পাথর উত্তোলনে বোমা মেশিন নামক দানব যন্ত্রকে সহযোগীতা করছে পে-লোডার মেশিন। সেই পে-লোডার দিয়ে বড় বড় গর্ত করে অপরিকল্পিত ভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর।

গত ৯ ফেব্রুয়ারী পাথর উত্তোলনকালে গর্ত ধ্বসে সিদ্দিক মিয়া নামের এক পাথর শ্রমিক গুরুতর আহত হয়। তাৎক্ষনিক আহত সিদ্দিককে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় চার দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টা পনের মিনিটের সময় সিদ্দিক মিয়া মৃত্যুবরণ করেন। সে ওসমানী মেডিকেলের ৪র্থ তলার ৭ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নিহত সিদ্দিক মিয়া (৩০) উপজেলার কাঠাল বাড়ি গুচ্ছ গ্রামের মহরম আলীর ছেলে। আজ বুধবার লাশটি ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, কোম্পানীগঞ্জের পাথরখেকোদের অন্যতম সম্রাট ও প্রভাবশালী হাজী মাহমুদ হোসেন উরফে মছন হাজী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছেন। স্থানীয় একটি পাথরখেকো বাহিনী গড়ে তুলে অসহায় মানুষের জমিজমা ও বসতভিটা দখল এমনকি ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক নাম মাত্র মূল্যে ক্রয় করে সেখানে পাথর উত্তোলন করে আসছেন। ফলে অল্প দিনে হয়ে যান কোটি কোটি টাকার মালিক।

এছাড়া সেই আলোচিত মছন হাজীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হলো, তিনি দয়ারবাজার থেকে কালাইরাগ নতুন বাজার (খুশিরবাজার) পর্যন্ত এলজিআরডির পাকাকরণ রাস্তার পাশে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করেন। ফলে সরকারি রাস্তাটি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ধ্বসে পড়ে সেখানকার কয়েকটি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিও। শুধু তাই নয়, মছন হাজীর ছোবল কেবল পাথরে নয়। বিষাক্ত ছোবলে তছনছ হয়েছে ঐতিহ্যবাহি কালাইরাগ গ্রামটি।

তিনি গ্রামের পাশে বোমা মেশিন বসিয়ে একে একে পুরো গ্রামটি খন্ড খন্ড গর্তে পরিণত করেন। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে গ্রামের মসজিদ, ঈদগাহ ও একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। তাছাড়া রেলওয়ের ভূমিতেও মছন হাজীর রয়েছে বিশাল আধিপত্য। প্রতি বছর সেখানেও তার নামে ৫/৭টি কোয়ারী করা হয়। আর এই বিশাল সা¤্রাজ্যে মছন হাজীকে সার্বক্ষনিক সহযোগীতা করে যাচ্ছেন তার গড়া একদল বুদ্ধিজীবী।

ফলে ভয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না কেউই। এছাড়া উপর মহলে রয়েছে তাঁর আতাঁত। এর প্রমাণ স্বরুপ রয়েছে ২০১৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে শ্রমিক নিহতের ঘটনা।

ঐদিন মছন হাজীর গর্ত ধ্বসে পাথর শ্রমিক নিহত হলে আসামী করা হয় তাকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই হত্যা মামলায় জামিন না নিয়ে নির্বিঘ্নে ও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন তিনি। এদিকে কোম্পানীগঞ্জ’সহ দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেখানে সীমান্ত আইন লংঘন করে প্রভাব খাটিয়ে মছন হাজী অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারী মছন হাজী ও তার ভাই ইলিয়াছুর রহমান, খালেদুর রহমান ও ভাগিদার বাবলু মিয়ার গর্ত ধ্বসে আহত হয় পাথর শ্রমিক সিদ্দিক মিয়া। চার দিন পর তার মৃত্যু হলেও বহাল তবিয়তে আছেন তারা।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুর রহমান খান সুরমার ডাককে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপশি তার আত্নীয় স্বজনকে ডেকে এনে মামলা রুজু করা হবে।

এদিকে সীমান্তের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কালাইরাগ বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার জয়নাল আবেদিন সুরমার ডাককে বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় পাথর উত্তোলনে বিজিবির রয়েছে কঠোর অবস্থান। তবে এখানে নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে অবাধে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। ভূমি মন্ত্রনালয় এমনকি খণিজ মন্ত্রনালয়ের কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই দিনের পর দিন উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবাধে পাথর উত্তোলনের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা রয়েছে হুমকির মুখে। অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ইচ্ছা করলেই অভিযান করতে পারি না। তবে ট্রাস্কফোর্সের মাধ্যমে আমরা অভিযানে অংশ গ্রহণ করি।

নোয়াখালীর সেনবাগে ইয়াবা ও গাঁজা সহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক।

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com