এরদোগান – সালমান : মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যত নেতৃত্বে আলোচিত দুই নাম:বিবিসি জার্নাল ডট কম

শুক্রবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৮:৩৫ অপরাহ্ণ | 14 বার

এরদোগান – সালমান : মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যত নেতৃত্বে আলোচিত দুই নাম:বিবিসি জার্নাল ডট কম

আনোয়ারুল হক আনোয়ার : গোটা মুসলিম বিশ্বে বিরাজমান সংকটের পাশাপাশি ভবিষ্যত নেতৃত্ব প্রদানে ঘুরেফিরে ২টি নাম অালোচনায় এসেছে । বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তি, অনলাইন পত্রিকা ও এডমিন গ্রুপের মধ্যে রীতিমত প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে । কেউ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে হিমালয় পর্বতে তুলতে চাইছে আবার কেউ কেউ সৌদী যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে মহা মানব হিসেবে আখ্যায়িত করছে । বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস’র উল্থান পতনে এই দুই ক্ষমতাধর ব্যক্তির নাম আলোচনায আসে । ফেইসবুক ও এডমিন গ্রুপের সদস্যরা উভয়ের পক্ষে বিপক্ষে প্রচুর আলোচনা সমালোচনা করছে । ইস্যুটিতে একে অপরকে অশালীন আচরণেও দ্বিধা করছেনা । দীর্ঘদিন যাবত আমি নিবিড়ভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষন করছি । এরদোগান ও যুবরাজ সালমান কেউ সমালোচনার উর্ধ্বে নয় । রাষ্ট্র পরিচালনা/গুরুত্বপূর্ণ পদে অসীন উভয়ের দোষত্রুটি থাকতে পারে । তাই পাঠকদের জ্ঞাতার্থে  উভয়ের সফলতা ব্যর্থতা উপস্থাপন করলাম।FB_IMG_1518186475621

রাজব তাইয়্যেব এরাদোগান : তুর্কী প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের উল্থান কখনো মসৃণ ছিলনা । আঙ্কারা’র মেয়র থেকে বর্তমানে দেশটির প্রেসিডেন্ট । যুগ যুগ ধরে তুরস্ক ছিল পাশ্চাত্যের একনিষ্ট সেবক । পশ্চিমা ধ্যাণধারণা থেকে গড়ে উঠা জনজীবনে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে । ধর্মকর্ম পালনেও ছিল কঠোরতা । এক নাগাড়ে ৬/৭ দিন নিয়মিত মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে হাজার হাজার তুর্কী যুবককে সাদা পোষাকধারী বিশেষ বাহিনী কারাগারে নিক্ষেপ করে । তেমনিভাবে তুর্কী মহিলাদের পোষাক আশাক ছিল পাশ্চাত্য সমতূল্য । নাস্তিকবাদী শাসকরা তুরস্কে ইসলাম ধর্মের প্রসারে চরম বিরোধিতা করে । অবশ্য আজকের তুর্কী সমাজ ব্যবস্থা ভিন্নতর । তুর্কী সিভিল ও সামরিক প্রশাসনে পাশ্চাত্যের অনুচররা ততপর ছিল । ফলে তুর্কী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে পাশ্চাত্য অনেক সুবিধা হাসিল করে । তুরস্ক ন্যাটো সামরিক জোটের একমাত্র মুসলিম সদস্য দেশ । অপরদিকে তুরস্ক ব্যতীত ন্যাটো জোটের সদস্যদেশগুলো আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য । অবশ্য মতবিরোধের কারনে বৃটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করে ।

তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোগান কয়েক বছর পূর্বেও পাশ্চাত্য ঘেঁষা ছিল । যার সুবাদে আইএস’র জন্য নিজের দরজা খুলে দেয় । ২০১৭ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যূল্থান সংগঠিত হবার পর এরদোগানের টনক নড়ে । তখন থেকে তুরস্কের সাথে পশ্চিমাদের সম্পর্ক ভাটা পড়ে । এরদোগান কাতার সংকটে দোহার পাশে দাঁড়িয়েছে । মার্কিন আধিপত্য রোধে রাশিয়া ও চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে । মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এরদোগানের সাহসী পদক্ষেপ প্রশসংনীয় । পকিস্তান, ওমান, কাতার, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক  জোরদার করা হয়েছে । মুসলিম বিশ্বের যে কোন সংকটে এরদোগানের সাহসী ভূমিকা লক্ষনীয় । বিশ্ব মানচিত্রে তুরস্ক একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে । খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষা সেক্টরে তুরস্ক স্বয়ংসম্পূর্ণ । আইএস ও কাতার ইস্যুতে এরদোগানের সাথে সৌদী আরব, আমিরাত, বাহরাইন, আমেরিকা ও ইসরাইলের তিক্ততা বৃদ্বি পেয়েছে । এক কথায় দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হচ্ছে এরদোগানকে ।

যুবরাজ সালমান : পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় সূযোগ সুবিধা । গনতন্ত্র কিংবা জবাবদিহিতার বালাই নেই । এক কথায় নাগরিক অধিকার ক্ষুন্ন । যুবরাজ সালমান ২০১৭ সালে পৈত্রিক সূত্রে ক্রাউন প্রিন্স নির্বাচিত হন । উচ্চাবিলাসী যুবরাজ মুহাম্মদ সালমান বর্তমানে দেশটির কর্ণধার । দেশ বিদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি রয়েছে । ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হবার কয়েক দিনের মাথায় ওয়াশিংটন উড়ে যান । ইসরাইলী লবিং ও পাশ্চাত্য ঘেঁষা যুবরাজ সালমানের উদ্যোগে মুসলিম সামরিক জোট গঠিত হলেও শুরুতেই বিতর্ক সৃষ্টি হয় । ক্ষমতার দাবীদার অপরাপর যুবরাজদের বিরুদ্বে শুদ্বি অভিযান পরিচালনা করেন । যুবরাজ সালমান যুব সমাজের সন্থুষ্টি অর্জনে মহিলাদের গাড়ী চালনায় অনুমতি দেন । পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের স্টেডিয়ামে খেলা দেখা, সী-বিচ’এ অবাধ বিচরন, সিনেমা হল চালু এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের ড্রেস কোড পরিবর্তন করেন । অর্থাৎ সৌদি মহিলারা পশ্চিমা নারীদের ন্যায় সূযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে । মিশরের গনতান্ত্রিক সরকার উৎখাতে বাদশা সালমান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন । কাতার দখলের খায়েস ছিল যুবরাজের কিন্তু এরদোগানের সাহসী ভূমিকায় তা সম্ভব হয়নি । ইয়েমেনে এক তরফা যুদ্বের নায়ক বলা হয় যুবরাজকে । এছাড়া বিশ্বব্যাপী ওহাবী মতবাদ জোরদার করার নেপথ্যে কাজ করছে সৌদী যুবরাজ । সুতরাং এসব বিষয় বিশ্লেষন করলে মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যত নেতৃত্বের দাবীদার কে সেটা সময় সঠিক বলতে পারবে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মুজিব সেনাকে বানানো হচ্ছে জিয়ার সৈনিক!

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com