ইউজিসি স্বর্নপদক পাচ্ছেন নোবিপ্রবির অধ্যাপক

বৃহস্পতিবার, ০৯ আগস্ট ২০১৮ | ১:১৭ অপরাহ্ণ | 905 বার

ইউজিসি স্বর্নপদক পাচ্ছেন নোবিপ্রবির অধ্যাপক

বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরী কমিশন(ইউজিসি) প্রদত্ত স্বর্ণপদক পাচ্ছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরী কমিশন এর বাছাইকৃত সেরা গবেষণা ও গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশককে এ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। ২০১৬ ও ২০১৭সালের দেশের মোট ৩৪জন গবেষক তাদের মৌলিক গবেষণা ও বস্তুনিষ্ঠ বিষয়বস্তুু গবেষনা প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য ইউজিসি পুরষ্কার এর মনোনয়ন পান।

নোবিপ্রবির শিক্ষক এর গবেষনার বিষয়বস্তু হলো “বাইপোলার ডিজঅর্ডার” নামক একধরণের মানসিক ব্যাধি। এটা এমন প্রকারের একটি মানসিক সমস্যা যা আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব কে বাঁধাগ্রস্থ করে। একই সময়ে অনেক বেশি আমোদ-প্রমোদ, অনেক বেশি সক্রিয় জীবন-যাপন এরপর পরই মানসিক হতাশাগ্রস্থতা, কাজে অমনোযোগিতা কাজ করা।

ড. শফিকুল ইসলাম জানান, ” বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর তথ্যমতে ‘বাইপোলার ডিজাঅর্ডার ‘ হল বিশ্বের ষষ্ঠ চিহ্নিত মানসিক ব্যাধি যার দিনদিন প্রাদুর্ভাব জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এই গবেষণার জন্য আমরা ঢাকাস্থ ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটউট অব মেন্টাল হেলথ’ থেকে ৫৫জন মানসিক রোগির আর ৫৫জন সুস্থ মানুষের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে গবেষনা কার্যক্রম শুরু করি, এক্ষেত্রে তাদের বয়স ও লিঙ্গ(পুরুষ বা মহিলা) প্রাধান্য দেয়া হয়।
সম্পূর্ণ গবেষনা চলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর ফার্মেসী বিভাগের ল্যাবে। এসময় তিনি ও তাঁর সহযোগীরা দেখেন যে “বাইপোলার ডিজঅর্ডার” শুধু জেনেটিক বা মস্তিষ্কের আকার পরিবর্তন এর জন্য হয়না ছাড়াও বিভিন্ন ননএনজাইমেটিক এন্টিঅক্সিডেন্টস্ যেমন: ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ও ভিটামিন-ই ছাড়াও কিছু ট্রেস উপাদান যেমন: জিঙ্ক, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও সেলেনিয়াম এর উপর নির্ভর করে। গবেষনায় ধরা পড়ে এন্টিঅক্সিডেন্টস ও ট্রেস উপাদানগুলোর অভাব উপরিউক্ত মানসিক রোগের ঝুঁকি অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। লিপিড পারঅক্সিডেশন প্রোডাকশনাল মেলোনডিএলডিহাইড এর মাত্রা বেড়ে গেলেও রোগটি মানবদেহে বাসা বাঁধে প্রকটরুপে।

“আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমরা এমন অনেক মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভূগী তবে গুরুত্ব না দেওয়ার কারনে এর মাত্রা দিনদিন বাড়ে এবং একটা সময় এরোগ মারাত্মক আকার ধারন করে যা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পরিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব বিস্তার করে । বাংলাদেশে “বাইপোলার ডিজঅর্ডার” নিয়ে গবেষনা এই ১ম। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৮.৯৫ভাগ লোক “বাইপোলার ডিজঅর্ডারর” রোগে ভোগে। আমাদের গবেষনা কার্যক্রম চলছে, এ ব্যাপারে নতুন আরে অনেক বিষয় উপস্থাপন করতে পারবো”, বলে জানান এ বিজ্ঞানী।
এই স্বর্ণপদক নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, “এরকম পুরষ্কার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষকের জন্য ১ম, আমি অত্যন্ত খুশি এই ভেবে যে আমার শিক্ষার্থীরা এরকম পদকের জন্য উৎসাহিত হয়ে গবেষনাতে প্রচুর মনোনিবেশ করতে পারবে। ”

গবেষনার নেশায় বুঁদ থাকা এই অধ্যাপকের প্রায় ৯৮টির মতো গবেষনা প্রবন্ধ রয়েছে, তাঁর গবেষনাগুলো অন্যান্য গবেষনায় ৫০০বারের ও অধিক রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।
বর্তমানে তিনি ফুসফুস ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এর জীনগত প্রভাব, এছাড়াও জিনপরিক্ষার মাধ্যমে ঔষধ নির্ধারন পদ্ধতি নিয়ে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “৩য় বিশ্বের একটি দেশ হিসেবে আমাদের বাংলাদেশে গবেষনা খুব কম হয়, মহান আল্লাহ্পাক আমাকে যদি তৌফিক দান করেন তাহলে বাংলাদেশে আমি “জেনেটিক ডায়াগনস্টিক ল্যাব” প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং উন্নত বিশ্বের মতো আমার দেশ ও ঔষধ শিল্পে এগিয়ে যাক একজন ফার্মাসিষ্ট হিসেবে এই আশাবাদ রাখি”।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় এর চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যস্ত সময় পার করার পাশাপাশি অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন স্থানে ফার্মাকোজেনোমিক্স সহ ফার্মাকোলজি এর অসংখ্য কনফারেন্স ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন, জাপান, সিঙ্গাপুর,মালয়েশিয়া, সৌদিআরবসহ অনেক দেশে তিনি বাংলাদেশের বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন।

নোয়াখালীতে আ. লীগের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৪০(ভিডিও)সহ

২০১১-২০১৬ | বিবিসিজার্নাল.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: webnewsdesign.com